ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদীয়মান তারকা হিসেবে এগিয়ে আসছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার কৃতি সন্তান নাজমুল হক সজীব। শুধু উদ্যোক্তা হিসেবেই নয়, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতার অগ্রনায়ক হিসেবে তিনি সমাদৃত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হকের ছেলে নাজমুল হক সজীব (ইভান) বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন আইটি ও সাইবার সুরক্ষা ক্ষেত্রে।
তার প্রতিষ্ঠিত ‘Take Down Fighters’ (TDF) দেশে ও বিদেশে সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রদান করছে। ফেসবুক আইডি ও পেজ রিকভারি, ব্লু ভেরিফাই, ওয়েবসাইট সিকিউরিটি, অনলাইন হ্যাকিং ও ব্ল্যাকমেইল প্রতিরোধ থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন হয়রানির সমাধানে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করেছে।
ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া ও অশালীন কনটেন্ট প্রতিরোধে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ, কনটেন্ট অপসারণ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজে তার নেতৃত্বাধীন টিম সক্রিয়। বর্তমানে তার সঙ্গে ১০০ এর বেশি যুবক কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় অনেক তরুণ-তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল, আর্থিক প্রতারণা ও মানসিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সেমিনার ও ওয়ার্কশপ পরিচালনা করছেন তিনি।
প্রযুক্তির পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন রক্ষায়ও তার উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের সুনাম রক্ষায় সচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি, যাতে হাওরের সমৃদ্ধ পর্যটন সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয়ের উৎস অক্ষুণ্ন থাকে।
নাজমুল হক সজীব বলেন, “রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেও আজ আমি আইটি খাতে কাজ করছি। কারণ দৃঢ় সংকল্প, পরিশ্রম, ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা থাকলে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নেয়। দেশের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদান করে, তাহলে দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে কাজ করে যেতে প্রস্তুত।”
প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাজমুল হক সজীব ও তার উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা অনেকেরই।