• ঢাকা
  • সোমবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , রাত ০৮:০৩
  • ১ পৌষ, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

তাহিরপুরের হত্যাকান্ডের জেরে প্রতিপক্ষের ১৯টি বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ দ্রুতবিচার আইনে মামলা

রিপোর্টার : দৈনিক আলোর সকাল
তাহিরপুরের হত্যাকান্ডের জেরে প্রতিপক্ষের ১৯টি বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ দ্রুতবিচার আইনে মামলা ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

এম আর সজিব, সুনামগঞ্জ।।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামে হত্যাকান্ডের জেরে প্রতিপক্ষের কমপক্ষে ১৯টি বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটতরাজের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে হলহলিয়া গ্রামের মৃত আমির আলীর পুত্র সুলতান মিয়া মামলাটি দায়ের করেন। আদালতে দায়ের করা ১৪ নং মামলায় দায়েরকৃত এ অভিযোগে নামীয় ৪২ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০৯ এর ৪ ও ৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টা থেকে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা প্রায় ১৫টি পাকাঘর ও আধাপাকা টিনশেডসহ মোট ১৯টি বসতঘর ভেঙে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, আসবাবপত্র, ধান চাল, পুকুরের মাছ, এমনকি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রায় ৩০টি পরিবার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ১৫০ জন নারী ও শিশু খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া ৩০০টির বেশি ফলজ ও কাঠগাছ কেটে ফেলা, ২টি টিউবওয়েল নষ্ট করা এবং বসতভিটা সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা পুরুষ-নারী মিলিয়ে মোট ৪২ জনের নাম।

উল্লেখ্য যে রাজমিস্ত্রীর ১ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা টাকা কে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়।

২২ সেপ্টেম্বরের হামলায় আজিজুল ইসলামসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মামলা করলে পরবর্তীতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধ সোনা মিয়া (৭৮) মারা গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। তার মৃত্যুর পরই প্রতিশোধমূলক হামলার দাবি উঠেছে।

মামলার বাদী সুলতান মিয়া বলেন আমাদের পুরো পরিবার উচ্ছেদ করে দিয়েছে। নারী-শিশুরা এখন খোলা আকাশের নিচে!

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের নুরুল ইসলাম বলেন আমাদের ক্ষেত্রেও খুন হয়েছে। গ্রামবাসীর উত্তেজনা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। 

দ্রুতবিচার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন তাহিরপুর থানাকে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দ্রুত তদন্ত করে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হবে

হলহলিয়া গ্রামের আমির আলী ও সাদেক আলীর গোত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এক ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষই এখন ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।


তাহিরপুর

আরও পড়ুন