সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৬নং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের দায়িত্বশীল ও সফল চেয়ারম্যান জুনাব আলী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে এনে দিয়েছেন দৃশ্যমান পরিবর্তন। উন্নয়ন, সততা ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছেন ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক।
বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের অধিকারী, ইউনিয়নবাসীর প্রিয়মুখ এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী প্রায় চার বছর আগে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ইউনিয়নের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
বিগত চার বছরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, কালভার্ট, সেতু এবং হাওরের জাঙ্গাল নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিয়েছেন।
শুধু উন্নয়নই নয়, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও রেখেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ১০ কেজি ও ৩০ কেজি চালসহ সরকারের বিভিন্ন সুবিধা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান জুনাব আলী।
চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, “আমাদের ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করেছি। সময় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কাজ পিছিয়ে গেলেও সার্বিক উন্নয়ন দৃশ্যমান। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সকল সুবিধা পৌঁছে দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যতদিন জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে থাকবো, ততদিন এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি এবং এসব কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউনিয়নবাসীর ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান জুনাব আলী একজন সদালাপী, পরিশ্রমী ও মানবিক জনপ্রতিনিধি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজেই পাচ্ছেন।
এছাড়াও ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ কমিটি সক্রিয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। নিয়মিত মাসিক সভার মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং ইভটিজিং বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন চেয়ারম্যান জুনাব আলী।
দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে আস্থাভাজন এই জনপ্রতিনিধিকে ইউনিয়নবাসী “জনগণের চেয়ারম্যান” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন তৃণমূল এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান জুনাব আলী একজন সৎ, বিনয়ী ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই ইউনিয়নে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া ছিল না। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত এই ইউনিয়নে উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করেছে।
আগে ইউনিয়নের ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ কিংবা সামাজিক বিরোধ মীমাংসার জন্য মানুষকে থানায় গিয়ে মামলা করতে হতো। কিন্তু চেয়ারম্যান জুনাব আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচার-সালিশের মাধ্যমে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও মামলা-মোকদ্দমা থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চেয়ারম্যান হওয়ার পরও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার নেই। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন বলেই জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। আগামী দিনেও ইউনিয়নবাসী চেয়ারম্যান জুনাব আলীকে আবারও নির্বাচিত দেখতে চান, যাতে তিনি আগের মতোই মানুষের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে পারেন।
মন্তব্য করুন