সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা-এর বাগবেড়, চিনাকান্দি ও বিশ্বম্ভরপুর (সদর) বাজার ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (১২ মে) তারিখ নির্ধারণ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে ইজারায় অংশ নিতে আগ্রহীরা সকাল থেকেই নির্ধারিত নিয়মে ২ লাখ টাকা জামানত জমা দিয়ে উপস্থিত হন।
তবে ইজারা কার্যক্রম শুরুর আগেই বাজার ইজারা কার নামে হবে—এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একপর্যায়ে তিনি হলরুমের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ফলে ওইদিন আর কোনো বাজারের ইজারা সম্পন্ন হয়নি।
সূত্র জানায়, ইজারা কার্যক্রম শুরুর আগে বাগবেড় বাজারের ইজারা নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান ইজারাদার গিয়াস উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। বৈঠকে মতানৈক্যের একপর্যায়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মোহন মিয়া বাচ্ছু ও শামিম আহমদের নেতৃত্বে একদল লোক গিয়াস উদ্দিনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় হামলাকারীরা প্রকাশ্যে গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিতরা। এ ঘটনায় ইজারায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার আলম হস্তক্ষেপ করেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান বলেন, “আপাতত বাজারে খাস আদায় চলছে। আমরা নতুন করে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেব। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরবর্তী সময়ে ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাগবেড় ও চিনাকান্দি গরুর হাটে খাস কালেকশনের দায়িত্ব পালন করছেন পলাশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা একেএম সাব্বিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন