শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী এলাকার একটি কথিত সিসা ও পুরাতন ব্যাটারি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটির চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে “কে.জি এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এলাকায় কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে পুরাতন ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা (Lead) প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে টিনশেড কাঠামোর বড় একটি শিল্প স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে রয়েছে উঁচু চিমনি, ভারী যন্ত্রপাতি ও শিল্পকারখানার বিভিন্ন অবকাঠামো। রাতের বেলায় কারখানাটিতে আলোকসজ্জা ও কার্যক্রমের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া ও মাথাব্যথার মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরাও আশঙ্কা করছেন, বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে ফসলি জমি, পুকুর ও জলাশয় দূষিত হয়ে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে ও ভোরে বেশি ধোঁয়া বের হয়। গন্ধে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমরা সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে আতঙ্কে আছি।”
আরেক কৃষক বলেন,“আমরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। যদি জমি ও পানি দূষিত হয়, তাহলে আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, সিসা প্রক্রিয়াজাতকরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প কার্যক্রম। যথাযথ পরিবেশগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ছাড়া এ ধরনের কারখানা পরিচালিত হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি কটিয়াদী উপজেলার মধ্যপাড়া ও বানিয়াগ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় তাৎক্ষণিক বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি অবগত আছেন এবং গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে কারখানাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন— কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে— এসব বিষয় দ্রুত খতিয়ে দেখে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন