এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তছনছ করে দিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাকুরিয়া নিচপাড়া গ্রামের একটি অসহায় পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। টাঙ্গাইলে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই সহোদর—মাইনুল ইসলাম (২৭) ও গিয়াসউদ্দিন (২২)। তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত দুই ভাই ছিলেন প্রতিবন্ধী বাবা আব্দুর রশিদ ও মা জাইরুন বেগমের একমাত্র ভরসা। ভাঙারি, পুরোনো মোবাইল ও চুল কেনাবেচার পাশাপাশি প্লাস্টিক ও কসমেটিকস সামগ্রী বিক্রি করে কোনোভাবে চলছিল তাদের সংসার। অভাবের মাঝেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা ছিল দুই ভাইয়ের। কিন্তু এক নির্মম দুর্ঘটনা সবকিছু শেষ করে দিল।
মাইনুল ইসলামের পরিবারে রয়েছে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সাত বছরের এক শিশুপুত্র। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
অন্যদিকে ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিনের সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। আসন্ন ঈদেই তার বিয়ের কথা ছিল। পাত্রী দেখা ও বিয়ের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আনন্দের বদলে এখন সেই পরিবারে বইছে শোকের মাতম।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে দুই ভাইকে। প্রতিবন্ধী বাবা-মা এখন দিশেহারা। যাদের কাঁধে ভর করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতেন, সেই দুই সন্তানই আজ চিরদিনের জন্য নিথর।
এলাকাবাসীর মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—
এই অসহায় পরিবারটির দায়িত্ব কে নেবে?
অনাগত সন্তান ও অবুঝ শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হবে?
নিহতদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝাই বা কীভাবে সামলাবে পরিবারটি?
একটি দুর্ঘটনা শুধু দুই ভাইয়ের প্রাণই কেড়ে নেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে একটি পরিবারের পুরো ভবিষ্যৎ। পাকুরিয়া নিচপাড়ার আকাশ-বাতাস আজও যেন সেই বুকফাটা কান্নার সাক্ষী হয়ে আছে।
মন্তব্য করুন