সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলতৈলছগাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব আমরোজ আলী এবং সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব মুহিবুল কিবরীয়া মাশুক আহমেদের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ও বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ বিকাল ৩:টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফুলতৈলছগাম শিক্ষা উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহ আলম স্বপন। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আমরোজ আলী এবং সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহিবুল কিবরীয়া মাশুক আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া, তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ আহমেদ, তোয়াকুল বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন এবং সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান ও ওয়ার্ড সদস্য মুরতুজ আলী, নিকলেস দাস। সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে প্রদুৎ চক্রবর্তী পিন্টু, রাশিদ আলী, অলিম উদ্দিন ও মতিউর রহমান (দুলাল) সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
ফুলতৈলছগাম শিক্ষা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সেক্রেটারি ইকবাল হোসাইন-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, আমরোজ আলী ও মুহিবুল কিবরীয়া মাশুক আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অবদান বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষক কখনো অবসর নেন না; তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও কর্মই তাঁকে মানুষের হৃদয়ে চিরজীবী করে রাখে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত দুই প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করে তাঁদের কর্মময় জীবনের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ ও গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাঁদের প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মন্তব্য করুন