সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৪ নং বড়দল উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক পদ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল হাসান রাসেল ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মুন্নার স্বাক্ষরে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট ৪ নং বড়দল উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন করা হয়। ওই কমিটিতে রাখাব উদ্দীনকে সভাপতি, আবুল হাসান খাইরুলকে সাধারণ সম্পাদক এবং মিজানুর রহমান (পিতা- জয়নাল আবেদীন, গ্রাম- দীঘলবাঘ শিংবাড়ি)কে প্রচার সম্পাদক করা হয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ব্রাহ্মণগাঁও নোয়াপাড়া গ্রামের মিজান (পিতা- আজিজুল ইসলাম) নিজেকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, তিনি অনুমোদিত কমিটির সদস্য নন এবং দলীয় অনুমোদন ছাড়াই ওই পদ ব্যবহার করে আসছেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাখা উদ্দিন বলেন, “কমিটির প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। অন্য যে ব্যক্তি নিজেকে প্রচার সম্পাদক পরিচয় দিচ্ছেন, তিনি কমিটির কেউ নন।”
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল হাসান রাসেল বলেন, “প্রচার সম্পাদক পদে যিনি রয়েছেন, তার জীবনবৃত্তান্ত আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি বিদেশে অবস্থান করায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় নন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে অন্য একজন নিজেকে প্রচার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তার কোনো সিভি আমাদের কাছে নেই এবং তিনি অনুমোদিত কমিটির সদস্যও নন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “কমিটি ঘোষণার এক মাস পর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আমার কাছ থেকে সিভি নিয়েছেন এবং আমাকে প্রচার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতে বলেছেন। আমি যদি কমিটির কেউ না হয়ে থাকি, তাহলে গত তিন বছর ধরে কেন এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি? এখন কেন বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে?”
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদলের এক নেতাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু লেখালেখির ঘটনার পর আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেন, “ছাত্রদল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন