যশোরের কেশবপুর উপজেলার বেতীখোলা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তালেবের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, জালিয়াতি এবং প্রতিষ্ঠানের ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রায় বছরজুড়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও মিলেছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো কোনো কার্যকর প্রতিকার মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের মূল বিবরণ:
স্থানীয় সূত্র এবং একাধিক দপ্তরে জমা হওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বেতীখোলা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে একক কর্তৃত্বে মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভুয়া রেজুলেশন ও কাগজপত্র জালিয়াতি করে তিনি প্রায় ৬৪ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য ও তহবিল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটেছে শিক্ষকের উপস্থিতির ক্ষেত্রে। সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না। প্রতিষ্ঠানে হাজিরা না দিয়েও প্রতি মাসে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। এর ফলে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
দপ্তরগুলোতে অভিযোগ ও স্থবিরতা:
মাদ্রাসার এই চরম বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে এবং সুপারের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা-উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিটি কিংবা দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আবু তালেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয় প্রশ্ন করা হলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পরে আর ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া হয় নি। তার পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলছে আমার আগের শিক্ষা অফিসার মহোদয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বা তদন্তের দায়িত্ব পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সুপারের জালিয়াতি ও ৬৪ লাখ টাকার দুর্নীতির রহস্য উন্মোচন করা হোক এবং সরকারি অর্থ লোপাটের দায়ে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
মন্তব্য করুন