কাতারের শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ২টায় উপজেলার আকুনি মাদ্রাসা মাঠে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কফিনবন্দী মরদেহগুলো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের দাফন কার্যক্রমের জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে প্রত্যেক পরিবারের জন্য আরও ৩ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। স্বজনদের কান্না, আহাজারি আর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে ও বিদায় জানাতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।
নিহতরা হলেন— কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ ও জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদির আহমদ।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কানাইঘাটজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে অনেক পরিবার। প্রবাসী এই রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের অকাল মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবিও জোরালো হয়েছে।
মন্তব্য করুন