সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তি, বিত্তবান পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন পেশার লোকজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুর ও হাসনবসত এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী কৃষকরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যাদের নিজস্ব কৃষিজমি নেই কিংবা চলতি বোরো মৌসুমে কোনো ধরনের আবাদই করেননি, এমন ব্যক্তিদেরও সরকারি সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম তালিকায় স্থান পায়নি।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রস্তুতের সময় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও ব্যক্তিগত সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশে তালিকায় অনিয়ম করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা যথাযথ মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তাদের দাবি, শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও মাঠপর্যায়ে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
জানা যায়, গত ২৫ জুন কালীপুর ও হাসনবসত এলাকায় তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। ওই বিতরণের পরই তালিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বঞ্চিত কৃষকদের অভিযোগ, সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যাদের পরিবারের সদস্যরা কখনো হাওরে কৃষিকাজ করেননি। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষক, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, নাপিত এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফরিদ মিয়া, মতিবুর রহমান, উকিল মিয়া, তালেব মিয়া, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, বাউল হানিফ ও বদরুজ্জামানসহ স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলেন, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে বিত্তবান ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের তালিকাভুক্ত করায় সরকারের মানবিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তারা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে তাদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং অভিযোগে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন