সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং এলাকায় “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
সূত্র জানায়, এসআই নাজমুল গত ২২ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ছুটিতে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে ঈদের একদিন পর থেকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিমুল বাগান সংলগ্ন এলাকায় একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি কর্মস্থলে না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কিছু পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানিগাঁও গ্রামের হাসান আলী ও ঘাগটিয়া গ্রামের রানু মেম্বারের নাম উল্লেখ করে নানা ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাণবিহীন বা একপাক্ষিক তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রয়োজন হলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা এবং তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী ও হাওরাঞ্চল এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলোও স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন