ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হিজড়া পরিচয় ব্যবহার করে এক শ্রেণির ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগের কারণে যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বাসস্ট্যান্ড, বাজার, সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহনে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা দাবি করেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কারণে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি।
এদিকে, বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে পরিচয়ের অপব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন