নেত্রকোনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই এবং ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শিপন আহাম্মদ তালুকদার রাতুলকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার নতুন বাইপাস এলাকায় সিএনজি থেকে ভুলবশত নেমে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। পরে পূর্বধলা উপজেলার শালদিয়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছালে তিনজন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ফেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ৪ হাজার ৫৬০ টাকা এবং প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ গ্রহণ করে এবং আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা নিজেদের একটি নম্বরে পাঠিয়ে নেয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দেখে অভিযুক্তরা জানতে পারে যে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এরপর তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে আখ্যায়িত করে জোরপূর্বক কিছু স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ১১ জুন পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিপন আহাম্মদ তালুকদার রাতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন