পিবিআই জানায়, খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করতেন। তিনি তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তারের মাধ্যমে প্রতিবেশী মোস্তাকীম হাসান কাজী, শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুলসহ পাঁচজনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে কম্বোডিয়ায় পাঠান। কিন্তু সেখানে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদের নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগীরা কৌশলে দেশে ফিরে এসে জিহাদ আলী লস্কর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে দুটি সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনা মামলাগুলোর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত থানায় নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দৌলতপুর থানায় ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়। গত ২৭ জুলাই পিবিআই খুলনা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাগুলোর তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) রেজোয়ান ও এসআই (নিঃ) মো. সোহানুর রহমান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগস্ট সাভারের আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠান। সেখানে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদের নারী পরিচয়ে ভয়েস পরিবর্তন করে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে অনলাইনে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণাসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে বাধ্য করা হতো। এসব কাজের জন্য তাদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না এবং পর্যাপ্ত খাবারও সরবরাহ করা হতো না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অভিযুক্ত জিহাদও দেশে ফিরে আসে। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে জিহাদ ও তার স্ত্রী সাভারে ভাড়া বাসা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন