
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা পারভীনের সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ ও চাকরিতে যোগদানের তারিখের হিসাব অনুযায়ী, তিনি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নাসিমা পারভীন রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার চাকরিতে যোগদানের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ জানুয়ারি ১৯৯৬।
অন্যদিকে, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ৫ মার্চ ১৯৭৯ উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। সেই হিসাবে ১ জানুয়ারি ১৯৯৬ তারিখে তার বয়স ছিল প্রায় ১৬ বছর ১০ মাস। অর্থাৎ, ওই তারিখে তার বয়স ১৭ বছরও পূর্ণ হয়নি।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সময় নির্ধারিত বয়সসীমা ও যোগ্যতার সঙ্গে তার বয়সের তথ্য কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
নাসিমা পারভীন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা-রঘুনাথপুর গ্রামের মো. সৈয়দ আলী সরদারের মেয়ে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগের সময় তার বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত জন্মতারিখের সঙ্গে চাকরির রেকর্ডে থাকা বয়সের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে পরিষ্কার করা উচিত।
তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়েছে কি না, নিয়োগের সময় অন্য কোনো সরকারি নথিতে ভিন্ন জন্মতারিখ ছিল কি না, কিংবা তৎকালীন নিয়োগ বিধিমালায় কোনো বিশেষ বিধান প্রযোজ্য ছিল কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নাসিমা পারভীন বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় তিনি বলেন এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিব না।
অভিযোগে বিষয় জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন দাঁড়ান দেখি সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা পারভীন সার্ভিস বুক দেখে আমি আপনাকে জানাচ্ছি সার্ভিস বুক দেখার পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। বলেন ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষ সাথে আলাপ আলোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন যদি ঘটনা সত্য হয় তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে,ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন