স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ দেশের প্রান্তিক ও ভাটির জনপদের অনেক মানুষ এখনো নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। সেই বাস্তবতা সামনে রেখে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও উন্নয়ন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃতী সন্তান মেজর মাহফুজুর রহমান সবুজ।
প্রস্তাবিত কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালের সরকারি ওষুধের হিসাব, চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, রোগীদের খাবারের মান, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। প্রতি মাসে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওষুধের মজুদ ও ব্যবহারের হিসাব কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
একইভাবে হাসপাতালে কতজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, কতটি অপারেশন হয়েছে, কতটি চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল বা অচল রয়েছে—এসব তথ্যও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। অচল সরঞ্জাম দ্রুত সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রস্তাবে রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের মান ও পরিমাণ, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নজরদারি থাকবে। শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাসিক হিসাব উপস্থাপনের পর কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করবেন।
কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত মাসিক কার্যক্রম ও প্রতিবেদন ফেসবুক, ইউটিউব, সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রকাশের প্রস্তাবও রয়েছে।
মেজর মাহফুজুর রহমান সবুজ মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া নয়—এটি মানুষের অধিকার। সরকারি হাসপাতালের সেবা যদি নিয়মিত নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়, তাহলে ভাটির জনপদের সাধারণ মানুষও মানসম্মত চিকিৎসার নিশ্চয়তা পাবেন।
তাঁর প্রত্যাশা, এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাসপাতাল হবে শুধু চিকিৎসার জায়গা নয়—অসহায় মানুষের ভরসার ঠিকানা। ভাটির মানুষও তখন বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বলতে পারবেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা আমাদেরও অধিকার।
মন্তব্য করুন