নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে সরকারি বরাদ্দের ৯০০ কেজি ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) ও টিসিবির চাল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার মৈনম ইউনিয়ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় কালোবাজারির অভিযোগে মোঃ উজ্জল সাকিদার নামের এক ভ্যানচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত মোঃ বাবু মন্ডলসহ (৫৬) অন্যান্য সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, মান্দা উপজেলার ০৬ নং মৈনম ইউনিয়ন এলাকায় দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল অবৈধভাবে পাচার ও কালোবাজারির উদ্দেশ্যে মজুত করা হচ্ছে। সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত অভিযানে নামে। বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৬টার সময় মৈনম ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মন্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তার বসতবাড়ির মূল গেট সংলগ্ন একটি টিনশেড রান্নাঘর থেকে মজুতকৃত ভিজিএফের চাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় সন্ধ্যা ৬:০৫ মিনিটের দিকে নিন্দইন ব্রিজ মোড় থেকে মৈনম বাজার হয়ে বাবু মন্ডলের বাড়ির দিকে আসা একটি ভ্যান আটক করে পুলিশ। বাবু মন্ডলের বাড়ির প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে জনৈক মোঃ আইয়ুব আলীর দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় ভ্যানটি থামিয়ে চালক উজ্জল সাকিদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদে চালক স্বীকার করেন যে, তিনি টিসিবির সরকারি চাল সংগ্রহ করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাবু মন্ডলের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযানকালে পুলিশ সর্বমোট ৯০০ কেজি সরকারি বরাদ্দের চাল জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত উজ্জল সাকিদার, পলাতক আসামি বাবু মন্ডল এবং অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজন একে অপরের সহযোগিতায় অবৈধভাবে সরকারি চাল মজুত করে খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১)/২৫-ডি ধারায় অপরাধের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রসঙ্গে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে জড়িত একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতা বাবু মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছে। কালোবাজারি ও সরকারি চাল চুরির সাথে জড়িত পলাতক সকল আসামিদের গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন