পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ-উৎসব শেষে দেশ আবার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নতুন গতিতে শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে সমানতালে সক্রিয় হয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত মফস্বল সাংবাদিকরাও। ঈদের ছুটি শেষে তারা আবার মাঠে নেমেছেন জনজীবনের নানামুখী সমস্যা, উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে।
বাংলাদেশের সংবাদজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো মফস্বল সাংবাদিকতা। রাজধানী কিংবা বড় শহরের বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেন এই সাংবাদিকরা। স্থানীয় জনগণের সুখ-দুঃখ, দুর্ভোগ, অবহেলা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক সমস্যা এবং নানা অসঙ্গতির সংবাদ সংগ্রহ করে তারা জাতীয় পরিসরে পৌঁছে দেন। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজের নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পথে মফস্বল সাংবাদিকদের নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সীমিত বেতন বা সম্মানী, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব, যাতায়াত সমস্যা এবং পেশাগত নিরাপত্তাহীনতা তাদের নিত্যসঙ্গী। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে হুমকি, হয়রানি কিংবা হামলার শিকারও হতে হয়। তবুও সত্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ঈদ-পরবর্তী সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাংবাদিকদের কাজের পরিধিও বেড়ে যায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উন্নয়ন প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের আরও বেশি মাঠে কাজ করতে হয়। এ সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ একজন সাংবাদিক নিরাপদ না থাকলে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও বাধাগ্রস্ত হয়।
মফস্বল সাংবাদিকদের প্রতি সমাজ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং সমাজের জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি সংবাদকর্মীদেরও পেশাগত নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।
আজ সময়ের দাবি হলো—মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
ঈদ-পরবর্তী এই সময়ে দেশের সকল মফস্বল সাংবাদিকের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের সাহসী কলম অব্যাহত থাকুক, আর সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।
মন্তব্য করুন