বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে “রাষ্ট্রপতি গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (সাহসিকতা) পদক (PVES)” অর্জন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা শাহা আলী।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক গাজীপুর জেলার সফিপুরস্থ বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে শাহা আলীর হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক তুলে দেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সুনামগঞ্জ জেলার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ইউনিয়ন দলনেতা “রাষ্ট্রপতি গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (সাহসিকতা) পদক (PVES)” অর্জন করলেন। শাহা আলীর এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে বাদাঘাট ইউনিয়নসহ পুরো তাহিরপুর উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের মাঝে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।
শাহা আলী তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কালিপুর গ্রামের কৃতি সন্তান। তিনি তার এ অর্জনের জন্য কালিপুর গ্রামবাসী, বাদাঘাট ইউনিয়নবাসী, তাহিরপুর উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার সকল মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন তার মা-বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা, দোয়া ও আদর্শিক শিক্ষাকে। শাহা আলী বলেন, “মা-বাবার দোয়া ও অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।”
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সুনামগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট, তাহিরপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সালমা বেগম, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
শাহা আলী বিশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন ডা. রফিকুল ইসলাম (এমডি), পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাদাঘাট-কে। তিনি বলেন, কর্মজীবনের শুরু থেকেই ডা. রফিকুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময়ে দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও সহযোগিতা করে আসছেন, যা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সকল সদস্য-সদস্যা, বন্ধু সমাজকল্যাণ যুব সংগঠন, বন্ধু কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শাহা আলী বলেন,
“আজকের এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; এটি আমার পরিবার, সহকর্মী, সংগঠনের সদস্যবৃন্দ এবং সুনামগঞ্জবাসীর ভালোবাসা ও সহযোগিতার ফল। আমি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আগামীতেও সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
এই গৌরবময় অর্জনে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। সকলেই শাহ আলীর উত্তরোত্তর সফলতা, সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন