ফয়সাল আজম অপু,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার জিয়ানগর এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য হওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্বর্ণকারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনায় স্বর্ণকার মো. পাতানুর আলীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পাতানুর আলী (৪৫) ওই গ্রামের মৃত কালু ইসলামের ছেলে। তিনি জেলা স্বর্ণকার কারিগর সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সদস্য হন পাতানুর আলী। এর জের ধরে তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাতানুর আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় তার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
খবর পেয়ে পাতানুর আলী বাড়িতে এসে ভাঙচুর বন্ধের অনুরোধ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তার বাম হাতের হাড় ভেঙে যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাতানুর আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী জহুরুল, সুরাজ, নিশান, আপন, কাউসার ও তুফানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে জহুরুলের বাম পা, সুরাজের মাথা, নিশানের বাম পা ও আপনের ডান হাতে আঘাত লাগে। তুফান ও কাউসারের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন পাতানুর আলীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে আলমারিতে রাখা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তিন ভরি আট আনা ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য সাত লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পাতানুর আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন আকন্দ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন