কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় র্যাব-১৫’র বিশেষ চিরুনি অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দলনেতা আব্দুল গফুর (৪৪) নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত গফুর একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ডাকাতি, অস্ত্রবাজি, মাদক কারবার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৫ মিনিটে র্যাব-১৫, সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ মডেল থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়া (কোনারপাড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুল গফুর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তার বসতঘরের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান (এলজি), এক রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং একটি বড় লোহার কিরিচ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল গফুর টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়া (কোনারপাড়া) গ্রামের মৃত বদিউর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আব্দুল গফুর স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত “গফুর ডাকাত দল”-এর প্রধান হোতা ও অন্যতম অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা চেষ্টা, গুরুতর আঘাত, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও একটি মাদক মামলায় তিনি ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলেও জানিয়েছে র্যাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গফুর ও তার সহযোগীরা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া এবং মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। র্যাবের এই অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
র্যাব-১৫ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন