১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং অসংখ্য মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সমগ্র বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়া।
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, তখন বাঙালি জাতি প্রতিরোধের শপথ নেয়। ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী—সকল শ্রেণির মানুষ এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ঘরছাড়া লাখো মানুষের কষ্ট এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়, দায়িত্ববোধ এবং আগামীর পথচলার দিশা।
মো. সোলায়মান মিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারছি এবং নিজের ভাষায় কথা বলতে পারছি। ঈদুল আযহা আমাদের ত্যাগ, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা ধারণ করে আমাদের উচিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়া সমগ্র বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের প্রধান পরিচয়। আসুন, আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে এক হই। এই সংগঠনের পতাকার নিচে সংঘটিত হয়ে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় একযোগে কাজ করি।
বার্তার শেষে তিনি মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবার ও সমগ্র দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, আল্লাহ আমাদের সকলকে ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করার এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন।
মন্তব্য করুন