বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ৭৫ কিলোমিটার রেল সেকশনের বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের বিদ্যুৎ লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ দিয়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিলও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক শাহ সারওয়ারের সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সেকশনের বিদ্যুৎ লাইনের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন ফোরম্যান আল মামুন। তাঁর অধীনে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন টিপু সুলতান। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ৭৫ কিলোমিটার রেলপথের বিদ্যুৎ লাইনের নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব রেলস্টেশন সংলগ্ন বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রেলওয়ের বিদ্যুৎ লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব সংযোগের বিনিময়ে প্রতি মাসে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অবৈধ সংযোগের কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), কিশোরগঞ্জের বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর দায়ভার বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়েকে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে এ তথ্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে ভৈরবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
সরেজমিনে ১৯৫৩ সালে স্থাপিত ভৈরব রেলওয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় এ কেন্দ্রের কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব স্টেশন এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রেলওয়ের বিদ্যুৎ লাইন থেকে অবৈধভাবে দোকান ও বাসাবাড়িতে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন