
Times Today-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জামাল রুহানিকে ঘিরে প্রেসক্লাবের সামনে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার জাহান ও উপ-মহাসচিব মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। একজন সাংবাদিকের সঙ্গে মতপার্থক্য বা পেশাগত বিরোধ থাকলেও তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা তাঁর পেশাগত পরিচয়কে হেয় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিএসকেপির অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সামনে দায়িত্ব পালনকালে Times Today-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জামাল রুহানিকে নিয়ে একাত্তর টিভির ক্যামেরা পারসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের নিয়ে গালিগালাজের ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন পেশাদার সাংবাদিককে নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি যথাযথ তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ না করেই করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনটি জানায়, জামাল রুহানি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঢাকা ওয়াসা, পল্লী বিদ্যুৎ, নগরবাসীর জনদুর্ভোগসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন করে আসছেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তিনি সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিএসকেপি উল্লেখ করেছে।
বিএসকেপির মতে, বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। সাংবাদিকতা এখন শুধু প্রিন্ট বা টেলিভিশননির্ভর নয়; অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরাও মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফলে একজন সাংবাদিক কোন মাধ্যমে কাজ করেন, সেটিকে কেন্দ্র করে তাঁর পেশাগত মর্যাদা নির্ধারণ বা তাঁকে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনের উপ-মহাসচিব মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, “গণমাধ্যম কারও ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর হাতিয়ার নয়। সাংবাদিকতার শক্তি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায়—অপপ্রচার, প্রতিহিংসা কিংবা চরিত্রহননে নয়। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য গ্রহণ করে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বর্তমানে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন, টেলিভিশন কিংবা প্রিন্ট—মাধ্যম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি একই। কোনো সাংবাদিকের পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হলে তা সাংবাদিকতার সুস্থ পরিবেশের জন্য হুমকি।”
বিএসকেপির চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার জাহান বলেন, “প্রেসক্লাবের মতো সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু পেশাগত শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “জামাল রুহানিকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যদি তথ্যগত অসঙ্গতি, একপাক্ষিকতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপস্থাপনের অভিযোগ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য ও বক্তব্যের যথার্থতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
বিএসকেপি কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। এসব নীতিমালা অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তেমনি গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে টেলিভিশন, প্রিন্ট, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া—সব মাধ্যমের সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করে বিএসকেপি।
মন্তব্য করুন