
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে আইডিয়াল ভিশন একাডেমি। নিয়মিত পাঠদান, দক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
২০০৯ সালে বাদাঘাট এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বৃহত্তর বাদাঘাট অঞ্চলের নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী পরিবারের সন্তানদের শহরে না গিয়েও মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “বৃহত্তর বাদাঘাট এলাকার অনেক স্বচ্ছল অভিভাবক তাদের সন্তানদের শহরে পড়ানোর সুযোগ পান। কিন্তু নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানদের শহরে রেখে পড়াশোনা করানো সম্ভব নয়। এসব পরিবারের সন্তানদের জন্যই আইডিয়াল ভিশন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভালো ফলাফল করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালে প্রথম জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল অর্জনের পর ২০২০ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তাহিরপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালেও সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের দাবি করেন তিনি।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, “সারাদেশে ফলাফলের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আইডিয়াল ভিশন একাডেমি ভালো ফলাফল করেছে। এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে।”
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৯ জন কৃতকার্য হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৮ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এছাড়া দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
কামরুল ইসলাম বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক—এটি আমরা বিশ্বাস করি না। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেককেই বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি উপবৃত্তির আওতায় আনার চেষ্টা করি। কোনো শিক্ষার্থী একান্তই বেতন দিতে না পারলে বিষয়টি আমরা বিবেচনা করি। আমরা বিশ্বাস করি, মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিয়ে নয়, ভালোবাসা, সম্মান ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখানো হয়। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে অতিরিক্ত ক্লাস ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।”
তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে দক্ষ করে তুলতে প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ‘কিডস ইংলিশ’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজির চারটি মৌলিক দক্ষতা—লিসেনিং, স্পিকিং, রিডিং ও রাইটিং—এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়, বরং তাদের নৈতিকতা, ভালো আচরণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে অতিরিক্ত পাঠদান ও নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের শেখার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২১ সাল থেকে আইডিয়াল ভিশন একাডেমি ধারাবাহিকভাবে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে আসছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি জেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ধারাবাহিক সাফল্য অর্জিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য আইডিয়াল ভিশন একাডেমি আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন