তিন সৎ ভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বিচারক মো. জসিম এ আদেশ দেন।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর তিন সৎ ভাই—মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অপর আসামিরা হলেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।
মামলার এজাহার/অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার সুযোগ নেন আসামিরা। একপর্যায়ে তাঁর গলায় রামদা ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বাদীপক্ষের দাবি, অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এসব দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।
তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং বিষয়টি তাঁরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবেন।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্যের সম্পত্তি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে ঘিরে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সিআইডির তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা, দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ হবে।
মন্তব্য করুন