রোকসানা পারভিন খুলনা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও মিছিল-সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ই নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর এই শোডাউনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলটির দুঃসময়ের কাণ্ডারি ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত ১৭ বছরের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জননন্দিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম যেভাবে দিনরাত তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশে থেকে আগলে রেখেছিলেন, তা আজ দল ক্ষমতায় বা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপজেলা জুড়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হঠাৎ জেগে ওঠার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন, জাহাঙ্গীর আলমের মতো বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে এই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ ও তরুণ তৃণমূল নেতা জানান, বিগত দিনে দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জাহাঙ্গীর আলম নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠের কর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন। অথচ বর্তমানে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে। এই অবস্থায় দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তাঁর নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট কালিগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দলের দুঃসময়ের অতন্দ্র প্রহরী ও গণমানুষের নয়নের মণি জাহাঙ্গীর আলমের ওপর অর্পিত বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। একই সাথে, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে দলের হাল ধরতে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে তাকে পুনরায় পূর্বের সাংগঠনিক দায়িত্ব অর্পণ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
নেতাকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সময়োচিত পদক্ষেপ না নিলে এবং জাহাঙ্গীর আলমের মতো ত্যাগী নেতাকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে না আনলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা আগামী দিনে দলের জন্য বড় খেসারত হতে পারে।
মন্তব্য করুন