
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি আইন অমান্য করে এই কার্যক্রম চালালেও, রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে নদীভাঙন ও বিজিবি ক্যাম্পসহ আশেপাশের সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরানপুর বিজিবি ক্যাম্পের ঠিক পাশেই একটি প্রভাবশালী মহল কোনো প্রকার ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালু অবলীলায় বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
ঝুঁকিতে বিজিবি ক্যাম্প ও পরিবেশ:
নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে এভাবে বালু তোলার কারণে মূল বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, বিজিবি ক্যাম্পের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গার এত কাছ থেকে কীভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়। প্রতিবাদ করলে নানামুখী হুমকির শিকার হতে হয় বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন:
আইন অনুযায়ী নদীর তীর বা সরকারি স্থাপনার কাছ থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এখানে কোনো আইন মানা হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়নি। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুতই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর পেছনের হোতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছু জানি না।
মন্তব্য করুন