কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুর্গাপূজার আগেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী দাস সম্প্রদায়ের শ্মশান ঘাটের ব্যবস্থা করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আমিরুল আরাফাত। বিগত এক বছর ধরে তাদের মরদেহ দাহ অথবা চাপা মাটি দেওয়ার কোন জায়গা ছিল না।
দীর্ঘ দুই মাসের প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার (১৫ই অক্টোবর) বিকেলে তাদের শ্মশানের নির্দিষ্ট জায়গাটি নিজে গিয়ে বুঝিয়ে দেন ইউএনও আমিরুল আরাফাত সঙ্গীয় উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সূত্রে জানা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি মাধবপুরে অবস্থিত তাদের একমাত্র শ্মশান ঘাটটি গত বছরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায়।
এই ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার দাস সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫-৪০টি পরিবারের বসবাস। তারা পূর্বে বেশ কয়েকবার শ্মশান ঘাটের আবেদন করেও শেষ মুহূর্তে এসে বাধা সৃষ্টি হয়। শ্মশান ঘাট বিলীন হওয়া নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করেছিল। পরবর্তীতে নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসার পর গত দুই মাস আগে তারা আবারও শ্মশান ঘাটের আবেদন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে অবশেষে তাদের জমিনের গতি হল। প্রায় ২ মাসের নিরবচ্ছিন্ন খোঁজ-খবরের পরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় প্রায় ১বিঘা খাস জমি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দাস সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুধীর দাস বলেন,
গত ১ বছরে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল শ্মশান ঘাট নিয়ে।”আমাদের কেউ মারা গেলে এই মুহূর্তে তাকে মাটি চাপা দেওয়ার মত এক ছটাক জমিনও এই পৃথিবীতে নেই। যাবো কোথায়?” পূজার আগে উপজেলা প্রশাসন শ্মশানের ব্যবস্থা করায়, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভাগ্য ভালো বিগত এক বছরে আমাদের কেউ মারা যায়নি।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিরুল আরাফাত জানান, গত দু’মাস আগে দাস সম্প্রদায়ের শ্মশান ঘাট নেই জেনে, তখন থেকেই উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছি। আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয়ও সাহায্য করেছেন। সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিকর্তার এই জমিনে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল থাকবেনা এটা হতে পারেনা।
মন্তব্য করুন