
নিজস্ব প্রতিবেদক, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিভিন্ন স্থানে শুষ্ক মৌসুমে ইজারার নামে অর্থ আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ছয় মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হলেও ১২ মাস অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে শান্তিপুর, করফুলা, বাংলা বাজার ও খাসতালে পানি না থাকলেও অর্থ আদায় বন্ধ হয় না। এ অবস্থায় প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকি তারা আরো জানিয়েছেন প্রয়োজনীয় সকল রকম সহযোগিতা করবেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ৪ নং বড়দল উত্তর ইউনিয়নের জনতা বাজার থেকে বাদাঘাট বাজার সড়কের বাংলাবাজার এলাকা, করফুলা, বোরখাড়া থেকে বাদাঘাট বাজার সড়কের খাসতাল এবং চাঁনপুর থেকে শান্তিপুর বাজার সংলগ্ন মাহারাম নদীর শাখা শান্তিপুর নদী নামে পরিচিত শান্তিপুর নদীসহ বিভিন্ন স্থানে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। এসব স্থানে ইজারার নামে অর্থ আদায় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
শান্তিপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সংশ্লিষ্ট স্থানে ছয় মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হলেও ইজারাদার ১২ মাস অর্থ আদায় করেন বলে তাঁদের অভিযোগ। শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাসতালের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পরও অর্থ আদায় অব্যাহত থাকায় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থাকলে নৌযান চলাচল ও পারাপারের প্রয়োজনে বৈধভাবে ইজারা দেওয়া যেতে পারে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকলে ইজারার নামে অর্থ আদায় বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং অর্থ আদায় নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ও ভোগান্তি কমবে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, ইজারার শর্ত ও মেয়াদ যাচাই করে শুষ্ক মৌসুমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনস্বার্থে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
মন্তব্য করুন