মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার পাতকুরা গ্রামের সামনের সড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রাহেলা আক্তার (বয়স্ক) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে কয়েক দফা চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঢাকায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ার পর আহত নারীকে একা ফেলে মোটরসাইকেলচালক ইয়াসিন তালুকদার ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তি চলে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে পাতকুরা গ্রামের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ইয়াসিন তালুকদার রাহেলা আক্তারকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই নারী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁর মাথা, পেট, কান, নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ এবং বমি হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামবাসীর চাপের মুখে ইয়াসিন তালুকদার আহত নারীকে প্রথমে চামরদানী নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধর্মপাশায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করেন। ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আহত নারীকে ঢাকায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ার পর তাঁর গুরুতর অবস্থার কথা শুনে মোটরসাইকেলচালক ইয়াসিন তালুকদার ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তি তাঁকে একা রেখে চলে যান। এতে আহত নারীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কাউকে আহত করার পর আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাঁকে অসহায় অবস্থায় ফেলে চলে যাওয়ার অভিযোগ কতটা মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আহত রাহেলা আক্তারের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন