সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাধেরখলা এবং ৩নং ওয়ার্ডের পুরানখালাশ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধেরখলা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী সাঁকো। দুটি ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি বর্তমানে একমাত্র সংযোগ ব্যবস্থা হওয়ায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই পথ ব্যবহার করে লেদারবন্দ, আনন্দবাজার, পুরানখালাশ চকবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি হেমন্ত মৌসুমে বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া পুরানখালাশ নূরানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও হাজী এম. এ. জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে প্রতিবছর গ্রামবাসী নিজেদের অর্থ সংগ্রহ করে অস্থায়ীভাবে সাঁকোটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে থাকেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য -এর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিগগিরই লিখিত আবেদন তাঁর কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, আবেদন পাওয়ার পর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুপন আহমেদ বলেন, “খালটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এখনো কাজটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমি সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।”
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে দুই ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এখন এলাকাবাসীর অপেক্ষা—কবে বাস্তবে রূপ নেবে তাদের বহুদিনের দাবি এবং শেষ হবে কবে সাধেরখলা খালের ভোগান্তি।
মন্তব্য করুন