শেরপুরের গারোপাহাড়ে বিচরণরত বন্যহাতি সুরক্ষায় আন্তর্দেশীয় হাতি চলাচলের করিডর চালু করতে আগের প্রটোকল অনুসারে শিগগিরই ভারতের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু।
তিনি বলেন, মেঘালয় থেকে আসা শতাধিক বন্যহাতি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে না পেরে শেরপুরের গারোপাহাড়ে আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, শেরপুরের অপরূপ গারোপাহাড়, বন্যহাতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনের হাব গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনের সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এতে শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিমসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, শেরপুরের বনাঞ্চলে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে। হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৫৩টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে এবং ৪৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সভা শেষে পরিবেশমন্ত্রী মধুটিলা ইকোপার্ক ও গজনী অবকাশ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্রও ঘুরে দেখেন।
মন্তব্য করুন