চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর উপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অফিস ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে জেলা নাগরিক আদায় কমিটির ব্যানারে এ সব কর্মসূচি পালিত হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে রেহাইচর এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিসের সামনে যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা মহানন্দা সেতুর টোল ঘরের কাছে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, জেলা নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল মোল্লা, ছাত্র জনতা মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ, শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল সিদ্দিকী নয়ন, সাংবাদিক নেতা ফয়সাল আজম অপু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ, জেলা সিএনজি ও অটোবাইক সমিতির সভাপতি মো. আজগর আলী, জেলা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুল ইসলাম সহ আরও অনেকেই।
জেলা নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৯৩ সালে চালুর পর থেকে মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে। এটি জনগণের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সেতুতে টোল আদায় বন্ধ না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিনুর রহমান বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে পরবর্তী তিন বছর সেতুতে টোল আদায়ের জন্য ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার দরপত্র দাখিলের শেষদিন ছিলো। এ দিনেই বিক্ষোভ ও অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হলো। তিনি বলেন, সারাদেশে ২০০ মিটারের অধিক দৈর্ঘ্যের সেতুতে একই নীতিমালা অনুযায়ী টোল আদায় করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কাজেই আলাদা করে শুধু মহানন্দা সেতুর (বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতু) টোলমুক্ত করার সুযোগ স্থানীয়ভাবে নেই। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার এক্তিয়ার সরকারের নীতিনির্ধারনী মহলের।
মন্তব্য করুন