গার্ডার ভেঙে পড়ায় সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার পথে জটিলতা বাড়ল।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদৈত্ব মৈত্রী সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ে গেছে।
(রবিবার ১৭ই মে) দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে সেতুটির ৫টি গার্ডার ভেঙে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম। সরেজমিনে সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত দিকটি দেখতে গেলে এমন তথ্য জানান তিনি।
এদিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই গার্ডার ভেঙে গিয়ে সেতুটি চলাচলের উপযোগী হওয়ার পথে আরও জটিলতা তৈরি হল, এমনই মন্তব্য স্থানীয় বাসিন্দাদের। এর আগেও প্রাকৃতিক দুর্ঘটনায় সেতুটির গার্ডার ভেঙে পড়েছিল।
নদী পাড়ে গড়কাটি গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন, নদী তীরে তাঁর একটি টং দোকান রয়েছে। কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে ক্ষোভ নিয়ে বলেন, সেতুটি চালু হবে কবে এই অপেক্ষার যেন শেষ নাই৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ৫টি গার্ডার ভেঙে নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে। শুনতেছি, মানুষ বলাবলি করছে ঝড়ে নাকি গার্ডার ভেঙে ফেলছে। আমার টং দোকান ঝড়ে ভাঙেনি, আর এত মজবুত একটা সেতু কিভাবে ভাঙল, সেটাই বুঝতেছি না।
নদী তীরে কথা হয় বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন এর সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, একটি সেতুর জন্য কত না অপেক্ষা। অথচ সেতুটি নির্মাণকাজ শেষে চলাচলের উপযোগী হলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটত। এসময় তিনি দাবি জানান, জনস্বার্থে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগী হোন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সেতুটির কাছে এসে দেখলাম ৫টি গার্ডার পড়ে গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, রাতে ঝড়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। সেতুটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করতে রি-টেন্ডার কল করা হয়েছে। এখন আবার ৫টি গার্ডার পড়ে যাওয়ায় জটিলতা দেখা দিল, বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যাদুকাটা নদীতে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ হয় এই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তমা কনন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটির কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষে কাজ সম্পূর্ণ না করেই চলে যায়।
মন্তব্য করুন