ভালো চাকরির আশায় সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার এক গৃহকর্মী। পরিবারের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর পর সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ওই নারী। এমনকি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম দোয়ারাবাজার উপজেলার ৭নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় চার মাস আগে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের আশ্বাসে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় দালাল জাহাঙ্গীর ওরফে গফুর মিয়ার মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন তিনি। স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি আকলিমা বেগম। বরং তাকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের দুর্বিষহ অবস্থার কথা জানান তিনি। নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি পরিবারের। ভুক্তভোগীর স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, “ভালো চাকরির কথা বলে আমার স্ত্রীকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। এখন সেখানে নির্যাতন করা হচ্ছে। দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলে দালাল আরও টাকা চাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”এ ঘটনায় অভিযুক্ত দালাল জাহাঙ্গীর ওরফে গফুর মিয়ার বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নজরুল ইসলাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এভাবে মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং মেয়েটিকে দেশে ফিরিয়ে আনে।”তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ওরফে গফুর মিয়ার মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা ও নির্যাতনের এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন