রাজশাহীর বাগমারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদক ইয়াবাসহ সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মির্জাপুর গ্রামের ওসির আলী মোল্লার ছেলে আবেদ আলী (৫৫) এবং তার স্ত্রী মাসুরা নাসরিন, যিনি তার তৃতীয় স্ত্রী। আবেদন আলী গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
পুলিশ জানায়, বাগমারা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় ওই দম্পতি ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় ছিলেন। এছাড়াও তাদের বসতবাড়ি তল্লাশি করে ৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের সদস্যের কারণে এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিস্তার লাভ করছিল। স্থানীয়দের দাবি, তাদের কারণে যুবসমাজ ক্ষতির দিকে ধাবিত হচ্ছিল। অভিযুক্ত আবেদ আলীর পরিবারের আরো সদস্য মাদকাসক্ত এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তালতলী ব্রিজ এলাকায় নদীর ধারে সন্ধ্যার পর নিয়মিত মাদক কেনাবেচা ও আড্ডা বসে। ওই এলাকাকে হিরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এলাকায় ইয়াবা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পিস, গাঁজা প্রতি পুরিয়া ১০০ টাকা, হিরোইন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ফেনসিডিল দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে ঈদ ও পূজার সময় মাদকের চাহিদা বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাংলা মদ (চুয়ানি), গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের সহজলভ্যতা রয়েছে। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট স্থানে মাদকসেবীদের ভিড় দেখা যায় বলেও অভিযোগ তাদের।
সচেতন মহল মনে করেন, মাদক নির্মূলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন