তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের দাবিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনটি শুনানি শেষে প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত। তবে আদালতের এ সিদ্ধান্তের পরও নদীর বালুমহাল চালু থাকা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের যুবায়ের ইকবাল নোমান যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের দাবিতে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নদীনির্ভর শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নদীকে ঘিরে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে নদীনির্ভর শ্রমিকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, বালুমহাল বন্ধ হয়ে গেলে নদীকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন।
নদীপারের স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, যাদুকাটা নদীর বালুমহাল চালু থাকলে নদীনির্ভর মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক থাকবে। তাই শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে যাদুকাটা নদীর বালুমহাল পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও নদী রক্ষার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, রিট পিটিশন প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত আদেশ বা লিখিত পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশের অনুলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন