
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নাশকতার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আতাউল হক দোলনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কৈখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম শুভকে ঘিরে। অভিযোগটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার আড়ালে আবুল কালাম শুভ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো নথি, মামলা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউল হক দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে আবুল কালাম শুভ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আতাউল হক দোলন সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে বর্তমানে দোলন দেশের বাইরে থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং তাঁর নির্দেশনায় শ্যামনগরে নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছে—এমন দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, আবুল কালাম শুভকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই গ্রুপের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও সুনির্দিষ্ট মামলা বা আদালতের নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
এদিকে আবুল কালাম শুভর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা স্বীকার করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমি আওয়ামী লীগ করি। দলকে সুসংগঠিত করাটাই আমার কাজ।”
তবে নাশকতার পরিকল্পনা, সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য আরও বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরেও শ্যামনগরে সাবেক এমপি আতাউল হক দোলনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে তখন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিবেচনা না করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নাশকতার পরিকল্পনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না—তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বানও জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন