
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা পারভীনের নিয়োগে চরম অনিয়মের তথ্য ফাঁস হয়েছে। মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস ১৭ দিন বয়সে তাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, যা সরকারি বিধিমালা ও নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী।
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ‘ভোরের চেতনা’ পত্রিকায় এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ বছর (কিংবা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স) হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, নাসিমা পারভীন মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস ১৭ দিন বয়সে অবৈধভাবে এই নিয়োগ লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ধামাচাপা থাকলেও জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকায় তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সম্পন্ন করেন।
তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করেছি। তদন্তে ওই শিক্ষিকার কম বয়সে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনার সত্যতা মিলেছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে এই নিয়োগ কীভাবে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নিয়োগ পাওয়া ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষা অনুরাগীরা।
মন্তব্য করুন