ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১৮ বছর বয়সী এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের দোলমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই তরুণীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে পরিচয়হীন অবস্থায় তাসলিমা নামের ওই তরুণী দোলমা গ্রামের দিনমজুর বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং মানসিক প্রতিবন্ধী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মানবিক বিবেচনায় বাচ্চু মিয়া তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
পরে তরুণীর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল কাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। একই সঙ্গে তিনি ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফুলবাড়িয়া থানা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এত যোগাযোগের পরও তরুণীর জন্য কার্যকর সহায়তা কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, বুধবার সকালে তরুণীর পেটে ব্যথা শুরু হয়। এ সময় আশ্রয়দাতা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে বুধবার সন্ধ্যার পর ভয়ের কারণে আশ্রয়দাতা বাচ্চু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর তিনি দোলমা বাজারে আশ্রয় নেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কেউ তাকে আশ্রয় দিতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ফলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই তরুণী কোথায় রাত কাটাবেন, কোথায় চিকিৎসা পাবেন—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
একজন অন্তঃসত্ত্বা ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন তরুণীর এমন পরিস্থিতিতে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, বিলম্ব না করে তরুণীকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া, হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তার পরিবারের পরিচয় শনাক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সমাজসেবা বিভাগকে সমন্বিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অসহায় এই তরুণীর দায়িত্ব নেবে কে?
প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের পরও কেন তার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা হলো না? একজন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে কি এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া যায়?
মানবিক বিবেচনায় এখনই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ।
মন্তব্য করুন