চাঁপাইনবাবগঞ্জ: নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভয়াবহ অনিয়মের মাধ্যমে লাইসেন্সের নবায়ন না থাকলেও রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ঠিকমতো সেবা দেন না চিকিৎসক, থাকে না নার্স, চলছে না কোনরকম চিকিৎসা কার্যক্রম। অথচ এভাবেই ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ভুল চিকিৎসায় রুগি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সাদিয়া ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তথ্য আসলেও এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করেই রোগীদের অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা সেবা ও পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা সরকারি নিয়ম বহির্ভূত। অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে সরেজমিনে গিয়েও।
ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সকল ঘরের দরজা বন্ধ করে রিসিপশনের পাশে দিনের বেলাতেই ঘুমিয়ে রয়েছেন এক নারী। তাকে জাগিয়ে তুললে ডাকেন একজন নার্সকে। নিজের পরিচয় নার্স দিলেও তার সরকারি রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ইসলামের ইতিহাতে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এখানে নার্স হিসেবে চাকুরি করছি। তিনি আরও জানান, এখনো মোট ৪ জন নার্স রয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র একজন নার্সিং পড়ুয়া নার্স রয়েছে, বাকি তিনজনই সাধারণ শাখায় পড়াশোনা করা।
অভিযোগ উঠেছে, ক্লিনিকটির মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম নিজেই চিকিৎসা করেন সেখানে। তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা করে প্রসূতি রোগী মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন অভিযোগ করেন সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এমনকি চারজন কথিত নার্স থাকলেও এমনকি কার্যক্রম বন্ধ থাকা স্বত্বেও আবারো কয়েকজন নার্স দেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্টানটি। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা দিয়েছে তীব্র সমালোচনা। ক্লিনিকে অনৈতিক কর্মকান্ডেরও অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
এনিয়ে মুঠোফোনে সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে ক্লিনিকটি চলছেও না, আবার বন্ধও হয়নি। একটু আর্থিক সমস্যার কারনে কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে। লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন করা হয়েছে, তা পেন্ডিং রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলাজুড়ে থাকা অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান সিভিল সার্জন।
মন্তব্য করুন