সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ফুটবল মাঠে প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, সাবেক খেলোয়াড় ও সচেতন নাগরিকরা মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং তরুণদের খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাদাঘাট ও আশপাশের ১০-১২ গ্রামের যুবকদের একমাত্র বড় খেলার মাঠ হলো বাদাঘাট ফুটবল মাঠ। প্রতিদিন বিকেলে শত শত কিশোর-তরুণ এখানে ফুটবল খেলতে আসে। কিন্তু প্রতিবছর গরুর হাট বসার কারণে মাঠজুড়ে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়, যা দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক যুবক লিখেছেন, “মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। অথচ এলাকার একমাত্র খেলার মাঠটি প্রতিবছর গরুর হাটের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঠে প্রায় ৩-৪ হাজার গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে খেলোয়াড়রা আহত হচ্ছেন, কেউ পায়ের গোড়ালি মুচকে ফেলছেন, আবার কারও পা পর্যন্ত ভেঙে যাচ্ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিরাপত্তাহীনতার কারণে মাঠে খেলা ছেড়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পোস্টে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মেহেদী হাসান মানিক, স্থানীয় সমাজসেবক সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নবনিযুক্ত সদস্য সচিব সাকিব মুন খোকনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেখানে দাবি জানানো হয়, এবারের হাট শেষে মাঠটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং আগামী ২০২৭ সাল থেকে গরুর হাটের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে, ফেসবুকে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে মন্তব্য করেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই খেলার মাঠ রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, মাঠটি শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি এলাকার তরুণদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশেরও অন্যতম কেন্দ্র। তাই মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন