
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অপহরণের অভিযোগ ওঠার প্রায় দুই মাস পরও অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই ছাত্রীর পরিবারের। পরিবারের দাবি, মামলার কয়েকজন আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, ছাত্রীকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অপহরণের শিকার স্কুলছাত্রী তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় ওই ছাত্রী। পরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের কাছ থেকে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
পরিবারের দাবি, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে শেখ মহসীন এলিন পাশা ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে তার বাবা অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এর পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় মেয়েকে উদ্ধারের জন্য গত ২ আগস্ট তাহিরপুর থানায় মামলা করেন ছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ (৩৬)। মামলায় শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২)-সহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১/২৬ বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ বলেন, “ঘটনার প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও আমার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়নি। মামলার আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে আমরা জানতে পারছি। মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশ সুপার, র্যাব ও ডিবির সহযোগিতা চাই।”
এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী অপহরণের শিকার হয়েছে—এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম। পরিবার লিখিতভাবে জানালে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ছাত্রীকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার করতে না পারায় তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, ছাত্রী বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং অপহরণের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে পরিবার।
মন্তব্য করুন