কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন একপ্রকার কম্পিউটার অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। তারেক নামের এক কম্পিউটার অপারেটর দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে বেসরকারিভাবে ওই অফিসে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, রিভিউ মামলা, নামজারি ও খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই কম্পিউটার অপারেটর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন চৌধুরী হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর তারেকের বিরুদ্ধে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রিভিউ মামলার কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা নেওয়া হলেও দীর্ঘ চার মাসেও কোনো কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিব হাসান চৌধুরী বিষয়টি শুনানির জন্য ভূমি অফিসের গোলঘরে বসেন। সেখানে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়ের বক্তব্য শোনেন তিনি। পরে বিষয়টির একটি সুরাহা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মো. তারেক ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারিভাবে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ শুরু করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান তহশীলদার যোগদানের পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তহশীলদারের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কাঞ্জরপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের কাছ থেকেও রিভিউ মামলার নামে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একাধিক ব্যক্তি তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. তারেক বলেন, “মামলার বিষয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল ঠিক, তবে জসিম চৌধুরীর বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।”
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “মামলার কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তারেক আমার কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা নেন। দীর্ঘ চার মাসেও কাজ না হওয়ায় আমি সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে অভিযোগ করি। পরে তিনি বিষয়টি শুনে আমার খতিয়ান নিজেই করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তারেককে অফিসে না যেতে বলেন।”
ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আক্তারুল ইসলাম সেলিম বলেন, “তারেক নামের কেউ আমাদের কম্পিউটার অপারেটর নয়।” তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওই কম্পিউটার অপারেটরকে আমি রাখিনি।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিব হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভূমিসেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান তহশীলদার যোগদানের পর থেকে নামজারি মামলাসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তহশীলদার ও কম্পিউটার অপারেটর তারেকের যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফাইল নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মন্তব্য করুন