স্টাফ রিপোর্টার:শফিকুল ইসলাম শফিক
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদানের ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। উক্ত প্রতিবাদ সভায় একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ।
আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নইম জাহাঙ্গীর।
আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত পাঁচ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পিরোজপুরের ঘটনায় জামায়াত-শিবির আবারও প্রমাণ করলো তারা স্বাধীনতার বিরোধী, তারা মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে না, তারা মুক্তিযোদ্ধার বিরোধী। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় বাধা দেওয়া মানে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি। অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান বলেন,
“একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া মানে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা। যে মানুষ জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন, তার শেষ বিদায়ে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোঃ সোলায়মান মিয়া বলেন,
“আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর সাথে যা হয়েছে, তা পুরো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাথে হয়েছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর আঘাত। মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে আমরা পিতৃ সংগঠনের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকব।”
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন,
“যে মাটির জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়েছেন, সেই মাটিতেই তাদের দাফন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে — এর চেয়ে বড় লজ্জা আর হতে পারে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী, তার শরীরে একাত্তরের রক্ত প্রবাহিত। তার পিতা নিজেই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাই আমরা বিশ্বাস করি, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অস্তিত্ব রক্ষার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাযথভাবে পালন করবেন এবং এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করবেন। অবিলম্বে বিচার না হলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
মন্তব্য করুন