সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শনির হাওরপাড়ের চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে নিজেও লাঠি হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা তরুণ-যুবকদের সরিয়ে দিতে দেখা যায়।
পরে দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য। তাঁর হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার মধ্যতাহিরপুর এলাকায় একটি ইজিবাইকের কাচে ক্রিকেট বল পড়াকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘর্ষের আগের রাতে গ্রামের মসজিদের মাইকে সংঘর্ষের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাত থেকেই চেষ্টা চালালেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে দুই পক্ষের লোকজন ফের লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হলে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বুধবার দেশে ফেরেন। বৃহস্পতিবার সকালে চার গ্রামের বাসিন্দারা আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তাঁর হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের লোকজন সরে যাওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে চার গ্রামের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা নিরসনে প্রশাসন ও স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন