
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বারইহাটি গ্রামের বটতলা এলাকায় আজিজুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজুল হক পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। তার কর্মস্থল কিশোরগঞ্জে হলেও তিনি বর্তমানে নরসিংদীতে থাকেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন তার ৭০ বছর বয়সী মা জোয়েদা খাতুন, ৪৫ বছর বয়সী বোন আম্বিয়া খাতুন ও ভাগনি তাসলিমা খাতুন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাতের শেষভাগে ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি বাড়ির সদর দরজার তিনটি তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় বাইরে আরও কয়েকজন অবস্থান করছিল। ঘরে ঢুকে তারা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে।
একপর্যায়ে আম্বিয়া খাতুনের মুখ ও হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং তাসলিমা খাতুনের গলায় চাপাতি ধরে তাকে জিম্মি করা হয় বলে পরিবারের দাবি। দুর্বৃত্তরা জমি কেনার জন্য রাখা টাকার বিষয়ে বারবার জানতে চায়। টাকা কোথায় রাখা হয়েছে তা জানাতে দেরি হওয়ায় আজিজুল হকের বৃদ্ধ মাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির তিনটি কক্ষের আলমারি ও ওয়ারড্রবের তালা ভেঙে মালামাল তছনছ করে। পরিবারের দাবি, সেখান থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, ৬ ভরি রুপার অলংকার, জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ৩ লাখ টাকা, মুঠোফোন, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় তারা। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পরিবার।
আজিজুল হক জানান, খবর পেয়ে ভোরে বাড়িতে এসে তিনি ঘরের সবকিছু তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, ৬ ভরি রুপার অলংকার ও নগদ ৩ লাখ টাকা চুরি যাওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
পুলিশ দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মন্তব্য করুন