সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি হওয়া (৪-৫) দিন বয়সী এক ছেলে নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক ‘চিরুনি অভিযানে’ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাওসার আহমেদ নামের এক অটোরিকশা চালককে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন বিকেলে ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের আন্ধারীগাঁও সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করেন সিএনজি অটোরিকশা চালক কাওসার আহমেদ। তিনি শিশুটিকে ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে জানায়। পরবর্তীতে শিশুটিকে দত্তক নিতে আইনিভাবে ১৩ জন ব্যক্তি আবেদন করেন। তবে গত ১১ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) ছাড়াই কাওসার আহমেদ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেন।
এর পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অফিস ও পুলিশ প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কাওসার ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগম শিশুটিকে নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থান করছেন।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নওবেল সরকার এবং ছাতক থানার এসআই ফজলে এলাহীর সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাদউল্লাহপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রথমে কাওসারকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ছাতকের কালারুকা বাজার এলাকায় কাওসারের নানার বাড়ি থেকে শুক্রবার ভোররাতে কল্পনা বেগমের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া নবজাতককে দত্তক প্রার্থী রোকসানা বেগমের তত্ত্বাবধানে পুনরায় ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরিফিন জানান, নবজাতকটিকে চিকিৎসা শেষে সমাজসেবা অফিসের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্য দম্পতি নির্বাচন করতে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুতই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নবজাতককে উপযুক্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য করুন